যশোর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনীর কিছু অঞ্চল সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে: আইনুন নিশাত

0
57

১০০ বছরের মধ্যে যশোর থেকে গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ থেকে চাঁদপুর ও চাঁদপুর থেকে ফেনী—এসব অঞ্চলের দক্ষিণাংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর আইনুন নিশাতের। তাঁর অনুমান—এ পরিবর্তন ৫০ বছরের মধ্যেও ঘটে যেতে পারে। এমনকি ঢাকার চারপাশের জমি লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে।

‘উপকূলের জীবন ও জীবিকা: সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক একটি জাতীয় সংলাপে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত এই তথ্য প্রদান করেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংলাপের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষা নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

সংলাপে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারগভারনমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই কথা বলেছেন আইনুন নিশাত। ১৯৫টি দেশ একমত হওয়ার পর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইপিসিসি।

রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব—এই সারির মধ্যাঞ্চল লবণাক্ত হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ঢাকা শহর খুব উঁচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ২৫ ফুট। ঢাকা শহরের চারপাশ লবণাক্ত হয়ে যাবে। কামরাঙ্গীরচর বা জিঞ্জিরার উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট। এসব এলাকা পানির তলায় চলে যেতে পারে।

লবণাক্ততা একটি গুরুতর সমস্যা উল্লেখ করে জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশ ভারতকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সম্মতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে লবণাক্ততা সমস্যার শুরু। উজান থেকে পানি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে লবণাক্ততা বাড়া শুরু হয়েছে।

অধ্যাপক আইনুন নিশাত উল্লেখ করেন, যে নদী পানি সাথে পলিমাটি আনে। সরকার নদী খননের নামে অবশ্যই অমূল্য মূল্যে অনেক অর্থ খরচ করছে। তবে, এই অর্থ ব্যবহার পাচ্ছে না। কারণ, খনন পরে পাল্লা আবার পলি হয়ে যায় এই অবস্থা দু-এক বছরের মধ্যেই ঘটে যায়।

এই সংলাপে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী ও বেসরকারি সংস্থা ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভের গবেষণা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল ফারুক মূল প্রবন্ধ পরিচালনা করেছেন।

সভাপতিত্ব করেছেন ধরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং রোমান ক্যাথলিক চার্চের আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ। তারা ছাড়া আরও বক্তব্য করেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ধরার সহ–আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা ও ধরার সহ–আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী।

সংলাপের প্রধান সহযোগী শরীফ জামিল নির্দেশনা করেছেন ধরার সদস্যসচিব নিখিল চন্দ্র ভদ্র। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার অঞ্চলের ভুক্তভোগীদের মধ্যে বার্তা দিতে আসেন খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারীর ইস্রাফিল বয়াতী, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মুহাম্মদ আল-ইমরান এবং বরগুনার তালতলীর আরিফুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here