28.1 C
Los Angeles
Thursday, December 19, 2024

বিশেষ সংবাদ Featured News

৩৮ বছর ধরে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয়তার মধ্যে বাস, চেরনোবিলের পথকুকুরেরা এখন ‘সুপারডগ’!

বিজ্ঞানীদের ধারণা, চেরনোবিলের বিষাক্ত পরিবেশে মানিয়ে নিয়েছে...

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ প্রমোদতরি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ প্রমোদতরি,আধুনিক সময়ের প্রমোদতরিগুলো...

শীতে কদর বেড়েছে খেজুর রসের

শীতে কদর বেড়েছে, আবহমান বাংলায় শীত মৌসুমে...

শরতের কাশফুলের সৌন্দর্যে ভরপুর পদ্মার তীর: রাজশাহীতে ভ্রমণকারীদের ভিড়

শরতের কাশফুলের সৌন্দর্যে ভরপুর পদ্মার তীর: রাজশাহীতে ভ্রমণকারীদের ভিড়

শরতের কাশফুলের সৌন্দর্যে,পদ্মা নদীর পাড়ে কাশফুলের সাদা তোড়া ধীরে ধীরে দুলছে, আর আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা তুলার মতো মেঘ। হালকা বাতাসে চারপাশ ভরে উঠেছে শরতের শীতল স্নিগ্ধতায়। নগরের কোলাহল থেকে দূরে পদ্মার তীরে এই শান্ত পরিবেশে মন যেন প্রশান্তির খোঁজ পায়। শরতের এই আকর্ষণ যেন দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণকারীদের মনকে টেনে আনে, আর কাশফুলের সাদা আভায় পরিপূর্ণ চরগুলো মনে এনে দেয় এই ঋতুর আগমনী বার্তা।

বাঙালি ক্যালেন্ডারের তৃতীয় ঋতু শরৎ কেবল প্রকৃতিকে নয়, মানুষের মনকেও স্নিগ্ধতায় ছুঁয়ে যায়। কাশফুল, শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ আর নীল আকাশে মেঘের খেলা—এই সবই শরতের প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। রাজশাহীতে পদ্মার চরের পাশে কাশফুলের মাঠ শরতের এই অপরূপ সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

নদীর তীরে কাশফুলের সাদা বরণ আর নদীর ধীর গতিশীলতা শরতের এই মনোমুগ্ধকর রূপকে আরও অনন্য করে তোলে। পদ্মার নতুন উদ্ভূত চরের সৌন্দর্য এখন রাজশাহীর একটি প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, যা দূর-দূরান্তের পর্যটকদের টেনে আনছে।

প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় জমে পদ্মার তীরে। যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি খুঁজছেন, তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে পদ্মার শান্ত তীর। নীল আকাশে ভাসমান মেঘ, দোল খাওয়া কাশফুলের মাঠ আর সোনালী সূর্যাস্তের রঙে রাঙানো নদীর তীরের দৃশ্য মনকে আবিষ্ট করে রাখে। চরের বুকে কাশফুলের সাথে হাঁটতে হাঁটতে শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস আর হালকা বাতাসে ভেসে থাকা পরিবেশ প্রকৃতির সাথে মানুষের এক মেলবন্ধনের উপলক্ষ এনে দেয়।

সম্প্রতি পদ্মার চর পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পুরো চর যেন এক ছোট্ট স্বর্গে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। রাজশাহীর মুক্তমঞ্চ এলাকা থেকে পদ্মার চরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। সারা চর জুড়ে কাশফুলের সাদা সাদা তোড়া, যা দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন সাদা চাদরে ঢাকা এক অবারিত প্রান্তর। এই অপূর্ব দৃশ্যের আকর্ষণে কাছাকাছি অঞ্চলের ভ্রমণকারীরা এখানে এসে মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় পর্যটকদের মুখে মুখে এর সৌন্দর্যের গল্প ছড়িয়ে পড়ছে, আর দিন দিন পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহীর বাসিন্দা মাহমুদ হাসান বলেন, “শরতের এই সময়টা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। পদ্মার চরের কাশফুলের সৌন্দর্য তুলনাহীন। শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সত্যিই এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”

স্থানীয় পশুপালক আবু তালেব বলেন, “প্রতিদিন সকালে গরু চরাতে নিয়ে আসার সময় কাশফুলের দৃশ্য মন ভালো করে দেয়। শরতের মতো আর কোনো ঋতু এমন প্রশান্তি এনে দিতে পারে না। শরতের এই সময়ে পদ্মার তীরে আসা মানে যেন প্রকৃতির উৎসবে যোগ দেওয়া।”

কাশফুল ছাড়াও পদ্মায় নৌকা ভ্রমণের আনন্দ এখন পর্যটকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। নদীর তীরে নৌকা নিয়ে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে নৌকা ভ্রমণে মগ্ন হচ্ছেন। পদ্মা গার্ডেন, টি বাঁধ, আই বাঁধ এবং মুক্তমঞ্চের আশেপাশে নৌকাগুলো অপেক্ষা করছে পর্যটকদের জন্য। নৌকায় করে পদ্মার কাশফুলের মাঠের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করে পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি তুলছেন।

প্রত্যেক সন্ধ্যায় পদ্মার তীরে পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। কাশফুলের সাদা আভায় ভরা মাঠ আর নদীর তীরে হাঁটতে হাঁটতে শরতের শান্তিপূর্ণ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন সবাই।

Check out our other content

Check out other tags:

Most Popular Articles