মেক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ? সরকারের বক্তব্যে নতুন জল্পনা, নজর ভারতেরও
ঢাকা: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে ঘিরে গঠিত মেক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না—এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব এলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মেক্কা প্যাক্ট কী?
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে এর সদস্য নয়। তবে ভবিষ্যতে আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে চীনের সঙ্গে রয়েছে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের রয়েছে শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স ও কূটনৈতিক সম্পর্ক।
এ অবস্থায় নতুন কোনো প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হলে তা দেশের কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে বেশ কিছু সংবেদনশীল ইস্যুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রত্যর্পণ ইস্যু—বিভিন্ন বিষয় দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে।
এর মধ্যে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের নজরে আসতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ মেক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
এখন মূল প্রশ্ন কী?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশকে আদৌ আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় কি না।
আমন্ত্রণ এলে তখন নিরাপত্তা, কূটনীতি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ—সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঢাকাকে।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—মেক্কা প্যাক্ট নিয়ে বাংলাদেশের দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়।
