চীনের J-10CE কিনছে বাংলাদেশ? বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে ঢাকা
ঢাকা: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ড্রোন সংগ্রহের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই ক্রয়চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের কাজ এগিয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে চলতি বছরেই চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। তা না হলে প্রক্রিয়াটি আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
কেন J-10CE?
J-10CE চীনের J-10C যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। এটি আধুনিক রাডার, অ্যাভিওনিকস এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ মিশনে ব্যবহারের সক্ষমতার জন্য পরিচিত।
বাংলাদেশের জন্য এই ধরনের আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা আধুনিকায়নের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
কতগুলো বিমান আসতে পারে?
প্রস্তাবিত চুক্তিতে প্রায় ২০টি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিমান ছাড়াও প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থার খরচ যুক্ত হলে চুক্তির মোট মূল্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন চীনের দিকেই ঝুঁকছে ঢাকা?
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে চীন ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ অতীতে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহ করেছে।
ফলে নতুন যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিদ্যমান সম্পর্ক কাজে লাগানোর সুযোগ থাকতে পারে।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
এই সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হতে পারে আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই চীনা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সিদ্ধান্তকে শুধু একটি সামরিক ক্রয় হিসেবে দেখবে না আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরাও।
তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটিকে মূলত নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন কী অপেক্ষা?
চুক্তির অর্থায়ন, চূড়ান্ত দর-কষাকষি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি পরিষ্কার হবে।
চুক্তি বাস্তবায়িত হলে J-10CE হবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং দেশের সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে পারে।
